ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদন

জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ৬.৫%

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ড স্টিল) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বিশ্বের ৬৯টি দেশে মোট ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টনে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

ওয়ার্ল্ড স্টিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বিশ্বজুড়ে ইস্পাত উৎপাদন কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে চীনের উৎপাদন হ্রাস। ইস্পাতের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের একটি বড় অংশ চীনের দখলে। তবে দেশটিতে নির্মাণ ও আবাসন খাতের চাহিদা কমে যাওয়ায় কারখানাগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ইস্পাত কারখানাগুলোয় কঠোর কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন সরকার। এ ধরনের পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ধাতব পণ্যটির উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে চীনের মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫৩ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

চীনের বিপরীতে ভারত বেশ কয়েক মাস ধরে ইস্পাত উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। গত মাসে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় ভারতে মোট ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ টনে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন, নির্মাণ প্রকল্প ও সরকারি বিনিয়োগ বাড়ার ফলে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ কমায় অনেক দেশ এখন বিকল্প উৎস হিসেবে ভারতের দিকে ঝুঁকছে।

ওয়ার্ল্ড স্টিলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত উৎপাদন ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭১ লাখ টনে পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদন ৫ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৫৬ লাখ টন। এছাড়া জার্মানি ও ইরানে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জানুয়ারিতে জার্মানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৩১ লাখ টন এবং ইরানে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২৬ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। তবে জাপানের উৎপাদন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখ টনে। রাশিয়ায় উৎপাদন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে পৌঁছেছে ৫৫ লাখ টনে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে জানুয়ারিতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় এ অঞ্চলে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ টনে। অন্যদিকে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে উৎপাদন ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টন হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় ইস্পাত উৎপাদন ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টনে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে শিল্প খাতে চাহিদা হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের ব্যয়ের কারণে উৎপাদন কিছুটা সীমিত হয়েছে।

আরও